ক্রেডিট কার্ড কি ও পাওয়ার যোগ্যতা, ব্যবহারের নিয়ম এবং সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জানুন!

বর্তমান এই ডিজিটাল যুগে, ক্রেডিট কার্ড আমাদের আর্থিক সহায়তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এবং এই কার্ডের জনপ্রিয়তা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। 

এই কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটিতে আপনি সবচেয়ে বেশি অফার লাভ করতে পারেন, এছাড়াও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে নানা সুবিধা রয়েছে, তবে এই কার্ড বুদ্ধিমানের মতো ব্যবহার না করলে ক্ষতির সম্ভাবনাও যথেষ্টই থাকে। তাই বেখেয়ালি মানুষদের এই কার্ড যথেষ্ট সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিৎ অন্যথায় আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই ক্রেডিট কার্ড বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা অসুবিধাগুলি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিবন্ধে আমরা ক্রেডিট কার্ড কি, তার সুবিধা, ঝুঁকি এবং কীভাবে ব্যবহার করলে আপনি অধিক লাভবান হতে পারবেন সেই সম্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

ক্রেডিট কার্ড কি

ক্রেডিট কার্ড হল সাধারণত ব্যাঙ্ক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা জারি করা একটি পেমেন্ট কার্ড, যা কার্ডধারককে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ধারে ক্রয় করতে বা নগদ টাকা তোলার ক্ষমতা প্রদান করে থাকে, অর্থাৎ আপনি যখন কোন জিনিস কিনছেন তখন আপনার কাছে টাকা থাকার আবশ্যিকতা নেই, আপনি এই ধারের অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করে দিলে আপনাকে কোন বাড়তি অর্থ প্রদান করতেও হয় না অন্যথা যদিও ক্রেডিট কার্ডের চুক্তির শর্ত অনুসারে আপনাকে প্রযোজ্য সুদ সহ ধারের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তার আরও বেশ কিছু কারন রয়েছে, যেমন এই কার্ডের সাথে আপনি বেশ কিছু আকর্ষণীয় অফার পান যেমন দামের ওপর বেশি ছাড়, ক্যাশব্যাক, কেনাকাটার ওপর পয়েন্টস্‌ ইত্যাদি। 

এছাড়া, আপনি সতর্কতা ও দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করে আপনার ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে পারবেন, যার ফলে আপনি অধিক ক্রেডিট লিমিট, কম সুদের হার, জলদি লোণ অ্যাপ্রুভড ইত্যাদি বাড়তি সুবিধাগুলি  উপভোগ করতে পারেন। 

আবার, ক্রেডিট কার্ডের অপব্যবহারের ফলে আপনার ক্রেডিট স্কোর খারাপ হতে পারে সেক্ষেত্রে আপনি ক্রেডিট কার্ডের বাড়তি সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত হবেন এবং অসতর্কতার সাথে ব্যবহারে উচ্চ সুদের হারে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে।

তবে, সব মিলিয়ে বলাই যায় যে, ক্রেডিট কার্ডের বহুবিধ আর্থিক সুবিধা প্রদানের কারনে এই কার্ড  সচেতনার সাথে আপনি ব্যবহার করলে অনেকাংশেই আর্থিক লাভবান হতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ড কি

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

ক্রেডিট কার্ডের জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে এবং তা কার্ড অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে থাকে। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলি নিচে উল্লেখ করা হলঃ

মানদণ্ডের বিবরণবিস্তারিত
বয়সকমপক্ষে ১৮ বছর ও সর্বোচ্চ ৬০ বছর
আয়একটি স্থিতিশীল আয়
কর্মসংস্থানবেতনভোগী বা স্ব-নিযুক্ত
নাগরিকত্বনাগরিক, বাসিন্দা এবং অনাবাসী

বয়সঃ

ক্রেডিট কার্ডের আবেদনের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে। তবে, কিছু ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হয়ে থাকে। তেমনই সর্বোচ্চ বয়সের ক্ষেত্রেও সীমাটি আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণত সর্বোচ্চ বয়স ৬০ বছর হয়ে থাকে।

বার্ষিক আয়ঃ

ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম মানদণ্ড হল আবেদকের বার্ষিক আয়, যা থেকে নির্ধারণ করা হয় যে আবেদক নির্দিষ্ট কোন কার্ডের জন্য যোগ্য কিনা, তবে তার অর্থ এই নয় যে আবেদকের কোন উচ্চ আয়ের প্রয়োজন, বরং আবেদক ক্রেডিট কার্ডের অর্থপ্রদান করার যোগ্য কিনা তা দেখা হয়ে থাকে।

ক্রেডিট স্কোরঃ

কোন ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার আগে অবশ্যই তার ক্রেডিট স্কোর যাচাই করা হয় যেখানে আবেদকের ক্রেডিট ইতিহাস, পেমেন্টের ইতিহাস, পেমেন্ট ডিফল্ট ইত্যাদি চেক করার পর তবেই কার্ড ইস্যু করা হয়ে থাকে। তবে, বেশ কিছু এন্ট্রি-লেভেল ক্রেডিট কার্ডও রয়েছে যেগুলি ক্রেডিট ইতিহাস নেই এমন আবেদকদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

নাগরিকত্বঃ

বিভিন্ন ধরণের ক্রেডিট কার্ডই উপলব্ধ রয়েছে তবে সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের জন্য দেশের নাগরিক বা যারা বাসিন্দা এবং অনাবাসীরাও আবেদন করতে পারেন। তবে, কিছু কার্ড আছে যেগুলি শুধুমাত্র সেই দেশের নাগরিকদের জন্যই উপলব্ধ থাকে।

কিষাণ ক্রেডিট কার্ড

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যদি প্রথমবার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে চলেছেন তবে অবশ্যই তার আগে আপনার এই কার্ড সম্মন্ধে সম্যক ধারণাটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, তা না হলে আপনি কখনই সঠিক ফাইনান্সিয়াল প্ল্যানিং করতে পারবেন না।

একটি স্মার্ট প্ল্যানিং করার জন্য অবশ্যই আপনাকে এই কার্ডের নিয়মগুলি সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে অবগত থাকতে হবে, যাতে আপনি ক্রেডিট কার্ডের ঋণের ফাঁদে না পড়েন এবং রিওয়ার্ডগুলির সুবিধা নিয়ে লাভবান হতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিচে তালিকাবদ্ধ করা হলঃ

গ্রেস পিরিয়ডঃ

গ্রেস পিরিয়ড হল ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে মূল্যবান বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি, যা জানা থাকলে আপনি ক্রেডিট কার্ডের সম্যক লাভ নিতে পারবেন।

গ্রেস পিরিয়ড হল একটি বিলিং স্টেটমেন্টের দিন থেকে আপনার অর্থপ্রদানের নির্ধারিত তারিখ বা ডিউ ডেটের মাঝের সময়সীমা, যা সাধারণত ২০ দিনের হয়ে থাকে, এই সময়ের মধ্যে আপনি বিলের সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করলে আপনাকে কোন রকম সুদ দিতে হয় না।

বিলিং ডেটঃ

ক্রেডিট কার্ডের বিলিং ডেট বা স্টেটমেন্ট ডেট হল যে নির্দিষ্ট দিনে আপনার সারা মাসের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের স্টেটমেন্টটি তৈরি করা হয়। এই বিলিং ডেটটি প্রতি মাসে সর্বদা একই থাকে যদি না ব্যবহারকারী দিনটি পরিবর্তন করার জন্য কোন আবেদন করেন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের স্মার্ট প্ল্যানিং করার জন্য আপনার কার্ডের বিলিং ডেটটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিউ ডেটঃ

ডিউ ডেট হল একজন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই তারিখটি আপনার ক্রেডিট কার্ডের বিল বা স্টেটমেন্টের মধ্যেই উল্লেখ করা থাকবে, যা সাধারণত বিলিং ডেটের ২০ দিন পরের তারিখটি হয়ে থাকে। এই তারিখের মধ্যে আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের বিলের অর্থ প্রদান করতে হয় অন্যথা আপনাকে লেট ফি দিতে হবে যা একটি ফিক্সড অ্যামাউন্ট হয়, এছাড়া ব্যালেন্সের ওপর উচ্চ হারের সুদও বসানো হবে যা আপনাকে GST এর সাথে প্রদান করতে হবে।

ন্যূনতম পেমেন্টঃ

আপনার বিলিং স্টেটমেন্টে দেখতে পাবেন ‘মিনিমাম ডিউ অ্যামাউনন্ট’ বা ন্যূনতম পেমেন্ট, যেটি সম্পূর্ণ বিলের অনেক কম অ্যামাউন্ট হয়ে থাকে, সাধারণত বিলের ৫%-১০%। এই ন্যূনতম পেমেন্টের অর্থ হল আপনি এই সামান্য পেমেন্টটি করার মাধ্যমে আপনার ক্রেডিট কার্ডটি চালু রাখতে পারবেন।

তবে কখনই আপনার এই ন্যূনতম পেমেন্ট করা উচিৎ নয় কারন তাহলে আপনার ব্যালেন্স অ্যামাউন্টের ওপর উচ্চ সুদের হার বসানো হবে অর্থাৎ পরের মাসের বিলে আপনাকে অনেক বেশি অ্যামাউন্ট পে করতে হবে। যদি কখনও অসুবিধার কারনে আপনি সম্পূর্ণ বিল পে না করতে পারেন তবে চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব পে করে দিতে তাহলে আপনার ব্যালেন্স অ্যামাউন্ট কম হবে এবং পরের মাসে আপনাকে কম পে করতে হবে।

লেট পেমেন্ট ও ফাইন্যান্স চার্জঃ

আপনি যদি কখনও ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান করতে ভুলে যান তবে আপনাকে লেট পেমেন্ট চার্জ দিতে হবে এবং তার সাথে ব্যালেন্সের ওপর উচ্চ হারে সুদ প্রদান করতে হবে। আপনার মনে হতে পারে যে আপনাকে শুধুমাত্র ডিউ ডেটের পরবর্তী দেরি হওয়া দিনগুলির জন্য চার্জ দিতে হবে তা নয়, আপনি আগের মাসে যে তারিখ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছিলেন সেই দিন থেকে প্রতিদিনের হিসেবে এমনকি গ্রেস পিরিয়ডেও আপনার সুদ ধার্য করা হবে। 

এছাড়া আপনি একাধিকবার ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্ট করতে মিস করলে আপনার CIBIL স্কোর খারাপ হতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে আপনি ক্রেডিট কার্ড থেকে কম রিওয়ার্ডস ও আর্থিক সুবিধা পাবেন।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় সুবিধা লাভ করতে পারেন এবং যে কারনে এই কার্ডের এত জনপ্রিয়তা। তবে আপনি সঠিক ভাবে এই কার্ড ব্যবহার না করলে আপনাকে বেশ কিছু অসুবিধাতেও পড়তে হতে পারে।

প্রথমে দেখে নেওয়া যাক যে ক্রেডিট কার্ড থেকে আপনি কত ধরণের কি কি সুবিধা পেতে পারেনঃ

ক্রেডিট বা ঋণ পাওয়ার সহজলভ্যতাঃ

ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর ক্রেডিট পাওয়ার সহজলভ্যতা। আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনার ক্রেডিট লিমিটের মধ্যে ইচ্ছামত কেনাকাটি করতে পারবেন এবং পরে সেই অর্থ প্রদান করলেই হবে। আপনার ক্রেডিট লিমিট প্রধানত আপনার আয়ের পরিমানের ওপর নির্ভর করে এছাড়াও ভাল ক্রেডিট স্কোরের মাধ্যমেও আপনি ক্রেডিট লিমিট বাড়াতে পারেন।

ক্যাশব্যাক ও অন্যান্য ছাড়ঃ

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কেনাকাটায় বা পরিষেবার ওপর ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ। আপনি যে ধরণের কেনাকাটি বা পরিষেবা গ্রহণ বেশি করে থাকেন আপনি সেসব ক্ষেত্রে বেশি রিওয়ার্ড দেওয়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে বেশি লাভবান হবেন যেমন ফ্লাইটের টিকিট, রেস্টুরেন্ট বিল, মুভি টিকিট, মুদিখানার কেনাকাটি ইত্যাদি। এছাড়া প্রায় সমস্ত রকম কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারে আপনি অধিক ছাড়ের সুবিধা পাবেন।

ক্রেডিট স্কোরঃ

আপনি যদি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অধিক সুবিধা লাভের আশা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ক্রেডিট স্কোরটি ভাল রাখতে হবে। ক্রেডিট স্কোর হল আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পারফরম্যান্স, অর্থাৎ আপনি কি পরিমাণে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন এবং ক্রেডিট বিল সঠিক সময় পে করেন কিনা ইত্যাদির ওপর ক্রেডিট স্কোরটি নির্ভর করে। ক্রেডিট স্কোর থেকেই কার্ডধারকের ক্রেডিটযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। আপনি যখন কোন ঋণের জন্য আবেদন করবেন, তা অনুমোদিত হবে কিনা তা এই স্কোর দ্বারা নির্ধারিত হবে। ভাল ক্রেডিট স্কোরের ক্ষেত্রে আপনি অধিক পরিমানের লোন, কম সুদের হারে পেতে পারেন।

ইএমআই সুবিধাঃ

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি EMI এর সুবিধাও নিতে পারবেন, যেমন কোন বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার সঞ্চয় থেকে খরচ করতে না চান তবে আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তা নিতে পারেন এবং পরে পে করতে পারেন অথবা আপনি সমান মাসিক কিস্তির (EMI) মাধ্যমেও পরিশোধ করতে পারেন। কোন বড় কিছু কেনাকাটির ক্ষেত্রে পার্সোনাল লোন না নিয়ে ইএমআই এর ব্যবস্থা করাই আপনার সহজ, সস্তার এবং বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সুদহীন ঋণঃ

ক্রেডিট কার্ডের আরেকটি সুবিধা হল যে আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটি করলে তার বিল পেমেন্টের তারিখ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ দিন থেকে সর্বাধিক ৪৫-৫৫ দিন মতো সময় পাবেন যাকে ‘ইন্টারেস্ট ফ্রি পিরিয়ড’ বলে, যেখানে আপনাকে কোন রকম সুদ দিতে হবে না। তাই বিনা সুদে স্বল্পমেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক।

ট্রাভেল রিওয়ার্ডঃ

যারা ঘুরতে বেশি পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড অনেক বেশি সুবিধাজনক। ভ্রমনপ্রিয় মানুষদের জন্য করা সেই ক্রেডিট কার্ডে আপনি পাবেন ভ্রমনের জন্য করা বীমা বা ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, এছাড়া ফ্লাইট, হোটেলে থাকা, গাড়ি বুকিং ইত্যাদির খরচের ওপর পাবেন বিশেষ ছাড় এবং ভ্রমন সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত খরচের ক্ষেত্রেই আপনি পয়েন্টস পাবেন। আপনি কিছু প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ডের সাথে বিশেষ লাক্সারি সুবিধাও পাবেন যেমন এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ অ্যাক্সেস বা কমপ্লিমেন্টারি আপগ্রেড করা ইত্যাদি যা শুধুমাত্র ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেই আপনি স্বল্প খরচে উপভোগ করতে পারবেন।

অন্যান্য সুবিধাঃ

ক্রেডিট কার্ডের অন্যান্য অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন আপনার মাসের মোট খরচের হিসাব রাখার সুবিধা, কোন ইমারজেন্সিতে টাকার প্রয়োজন হলে তার যোগান হওয়া, আপনাকে সর্বদা ক্যাশ নিয়ে বেরনোর প্রয়োজন নেই, ভাল ক্রেডিট স্কোর থাকলে আপনি বড় লোনের আবেদন করতে পারবেন, বিদেশে গেলে সেই দেশের অর্থ না থাকলেও আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন ইত্যাদি।

এবার দেখে নেওয়া যাক যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অসুবিধাগুলি কি কি এবং যা নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন হওয়া উচিতঃ

ঋণের ফাঁদঃ

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল কার্ডধারকের ক্রমশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অতি সহজেই ব্যয় এবং পরে অর্থপ্রদান করার ফলে আসলে আপনি কতটা ব্যয় করছেন তার হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। 

এছাড়া আপনি যদি ক্রেডিট কার্ডের মিনিমাম্‌ ডিউ বা ন্যূনতম বকেয়াটুকু পরিশোধ করেন তাহলে বাকি ব্যালেন্সের ওপর আপনার মোটা সুদ ধার্য করা হয়। তাই প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের সম্পূর্ণ বিলটি পরিশোধ না করতে পারলে সুদ সহ ব্যালেন্সটি বেড়ে ক্রমশ আপনি ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

উচ্চ সুদের হারঃ

ক্রেডিট কার্ডের আরও একটি অন্যতম ঝুঁকি হল এর উচ্চ সুদের হার। আপনি যদি ক্রেডিট কার্ড বিলের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আপনার বকেয়া পরিশোধ না করেন, তাহলে তা পরের মাসে বিলে উচ্চ সুদ সহ যুক্ত করা হবে। ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার প্রতি মাসে গড়ে ৩%-৪%, যা বার্ষিক ৩৬%-৪৮% হয়ে থাকে।

ক্রেডিট স্কোরঃ

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অধিক সুবিধালাভ করার জন্য ভাল ক্রেডিট স্কোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আপনি যদি দেরিতে পেমেন্ট করেন বা ক্রেডিট লিমিট পর্যন্ত সর্বাধিক ব্যয় করেন ও লেট পেনাল্টির জন্য উচ্চ সুদের সাথে বিল প্রদান করা হয়ে থাকে তাহলে উল্লেখযোগ্য ভাবে ক্রেডিট স্কোর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ফলস্বরূপ ক্রেডিট কার্ড থেকে খুব কম সুবিধাই আপনি পাবেন।

ক্রেডিট কার্ড ফিসঃ

ক্রেডিট কার্ডের আরেকটি দিক যা প্রায়শই আপনার নজরে পড়ে না তা হল এর হিডেন কস্ট বা লুকান খরচগুলি যেমন জয়েনিং ফিস, রিনুয়াল ফিস এবং ট্রানসাকশান বা প্রসেসিং ফিস। এছাড়া বকেয়া তারিখ বা ডিউ ডেটের পর বিল পে করার ক্ষেত্রে আছে লেট পেমেন্ট ফিস, যেগুলি সম্পর্কে কার্ডধারকের অবশ্যই জ্ঞাত হওয়া উচিৎ।

হিসাব বহির্ভূত খরচঃ

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আরও একটি ক্ষতিকর দিক হল যে বেপরোয়া খরচের অভ্যাস। ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্ন অফারের লোভে অনেক সময়ই আমাদের হিসাবের বাইরে খরচ হয়ে গিয়ে থাকে, কারন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটিতে আমাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স তাৎক্ষনিক কোন প্রভাব পড়ে না তাই অনেক সময়ই আমাদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায় এবং ফলস্বরূপ ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Leave a Comment