ইপিএস ৯৫ পেনশন কি?। ইপিএস ৯৫ ন্যূনতম পেনশন, সুবিধা ও প্রকার

Updated on January 28th, 2024 ||

ইপিএস বা ‘এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম’ হোল অত্যন্ত সুপরিচিত একটি পেনশন প্রকল্প যা ভারত সরকারের ‘এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন’ বা ইপিএফও দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। এই পেনশন স্কিম ‘প্রভিডেন্ট ফান্ড’ স্কিমের সাথেই উপলব্ধ অর্থাৎ প্রত্যেক পিএফ সদস্যগণই এই পেনশন স্কিমের অন্তর্ভুক্ত।

Table of Contents

ইপিএফ পেনশন ৯৫ কি?

ইপিএফও এর অধীনস্থ পেনশন স্কিমটির নাম হোল ‘এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম’ বা ইপিএস যা ১৯শে নভেম্বর ১৯৯৫ সালে চালু করা হয়েছিল, তাই এই স্কিমকে ইপিএস/ইপিএফ ৯৫ বলা হয় থাকে।

এই স্কিমের অধীনে কর্মচারীরা ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরে পেনশনের অধিকারী হবেন, এবং কর্মচারীদের কমপক্ষে ১০ বছর চাকরি করতে হবে তবে অবিচ্ছিন্ন পরিষেবা হওয়ার প্রয়োজন নেই।

ইপিএফও -এর নির্দেশাবলী অনুযায়ী কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা উভয় পক্ষই এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত এবং চুক্তিবদ্ধ।

কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী প্রতি মাসে তার বেসিক স্যালারি এবং ডিএ -র মিলিত পরিমানের ১২% পিএফ অবদান রাখেন। একইসাথে, নিয়োগকর্তাও কর্মচারী অ্যাকাউন্টে ১২% অবদান রাখেন তবে সেই অবদানের ৮.৩৩% কর্মচারীদের পেনশন স্কিম অর্থাৎ ইপিএস -এ জমা হয় এবং বাকি ৩.৬৭% কর্মচারীদের ভবিষ্যত তহবিল অর্থাৎ ইপিএফ -এ যায়।

এই স্কিমের সুবিধাগুলি বিদ্যমান এবং নতুন ইপিএফ সদস্য উভয়ের জন্যই উপলব্ধ।

eps95 pension bengali

ইপিএস ৯৫ ন্যূনতম পেনশন

ইপিএফও, ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে ইপিএস সদস্যদের জন্য ন্যূনতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ ₹১,০০০/- টাকা নির্ধারণ করে যা বর্তমানেও প্রযোজ্য। তবে সরকারের কাছে এই পরিমাণ বৃদ্ধির দাবী করা হয়েছে।

কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তার অবদান ছাড়াও, প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকার প্রতিটি কর্মচারীর মজুরির ১.১৬% সহায়তা প্রদান করে থাকে। তবে সরকারের এই অতিরিক্ত সহায়তার পরিমাণ মাসিক সর্বাধিক ₹১৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ইপিএস ৯৫ পেনশন বৃদ্ধির সর্বশেষ খবর

পেনশনারদের সংগঠন ইপিএস ৯৫ জাতীয় আন্দোলন কমিটি ভারত সরকারের কাছে ন্যূনতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ ₹৭,৫০০/- টাকা করার জন্য আবেদন করেছিল।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩রা মে, ২০২৩ -এ ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক’ দ্বারা জানানো হয়েছে যে উচ্চতর ইপিএস -এর ক্ষেত্রে কর্মচারীদের বাড়তি অবদান দিতে হবে না। মজুরি সীমার উপরে অতিরিক্ত ১.১৬% এখন নিয়োগকর্তার অবদানের ১২% থেকে নেওয়া হবে।

শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে ইপিএস -এ উচ্চতর পেনশনের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।

নিচে উচ্চতর পেনশনের আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ডগুলি উল্লেখ করা হলঃ

  • যে সমস্ত কর্মচারীরা ১লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ এর আগে অবসর নিয়েছিলেন এবং প্রকৃত মজুরি অবদান রেখেছিলেন, কিন্তু তাদের উচ্চতর পেনশনের আবেদন ইপিএফও দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
  • যে সমস্ত কর্মচারীরা, যারা ১লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ এর আগে কাজ করছিলেন এবং তারপর কাজ চালিয়ে গেলেও উচ্চতর পেনশনের জন্য আবেদন করার সুযোগ মিস করেছেন।
  • যে কর্মচারীরা ১লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তে কর্মরত ছিলেন এবং তার পরে অবসর নিয়েছেন তারাও উচ্চতর ইপিএস -এর জন্য আবেদন করার যোগ্য।

তবে মনে রাখতে হবে ইপিএস ৯৫ ফ্যামিলি পেনশনভোগীরা উচ্চ পেনশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

উচ্চতর পেনশনের আবেদন সময়সীমা ইতিমধ্যেই ইপিএফও দ্বারা একাধিক বার বাড়ানো হয়েছে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১১ই জুলাই ২০২৩ এবং এরপরে অনলাইন যৌথ আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না (যদি না শেষ তারিখ আবার বাড়ানো হয়)।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোল যে, বর্তমান পেনশন গণনা পদ্ধতি অনুসারে পেনশনের পরিমাণ গত ৫ বছরে পরিষেবার মোট দৈর্ঘ্য এবং গড় মূল বেতনের উপর নির্ভর করবে।  অতএব, কর্মচারীর পরিষেবার সময়কাল যত বেশি হবে, তত বেশি পেনশন লাভ করবেন।

ইপিএস যোগ্যতার মানদণ্ড

নিম্নলিখিত যোগ্যতার মানদণ্ডগুলি ইপিএস ৯৫ এর জন্য আবশ্যিকঃ

  • অবশ্যই ইপিএফ সদস্য হতে হবে।
  • ইপিএস ৯৫ পেনশন স্কিমের অধীনে পেনশন সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মচারীকে ন্যূনতম ১০ বছর চাকরি করতে হবে।
  • পেনশনের জন্য অবসরের বয়স ৫৮ বছর। তবে,আগে অবসর নেওয়া হলে সেক্ষেত্রে পেনশনের হার কম হবে।
  • যদি পিএফ সদস্য ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন পেতে চান, তবে বছর প্রতি অতিরিক্ত ৪% করে পাবেন।
  • যদি পিএফ সদস্য ১০ বছরের পরিষেবা সম্পূর্ণ না করে থাকেন তবে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে থাকেন, সেক্ষেত্রে যদি তিনি ২ মাসের বেশি বেকার থাকেন তাহলে ইপিএস পরিমাণ উত্তোলনের করতে পারবেন।
  • পিএফ সদস্য যদি সম্পূর্ণরূপে এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে যান, এবং পেনশনযোগ্য পরিষেবার সময় পর্যন্ত কাজ না করতে পারেন তবুও তিনি মাসিক পেনশনের জন্য যোগ্য হবে। তবে পিএফ সদস্য অক্ষমতার কারণে চাকরির কাজে অনুপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য একটি মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে।
  • চাকরিরত অবস্থায় পিএফ সদস্যর মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারের সদস্যরাও পেনশন পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।

ইপিএস সুবিধা

ইপিএস এর ক্ষেত্রে আপনি নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি পাবেনঃ

৫৮ বছর বয়স থেকে পেনশন

ইপিএস সদস্য ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার সাথেই পেনশন পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেন। তবে, পেনশন সুবিধা পাওয়ার জন্য তার ৫৮ বছর বয়সে কমপক্ষে ১০ বছরের পরিষেবা প্রদান করা বাধ্যতামূলক। অবসর গ্রহণের পরে, একটি ইপিএস পেনশন স্কিমের শংসাপত্র দেওয়া হবে। মাসিক পেনশন তোলার ক্ষেত্রে ‘ফর্ম ১০ডি’ পূরণ করার জন্য এই শংসাপত্রটি আবশ্যক।

মাসিক পেনশনের যোগ্য হওয়ার আগে পরিষেবা ত্যাগ করা

যদি কোনও সদস্য ৫৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে ১০ বছর চাকরিতে না থাকেন তবে তিনি ‘ফর্ম ১০সি’ পূরণ করে ৫৮ বছর বয়সে সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। তবে উল্লেখ্য যে অবসর গ্রহণের পর তিনি মাসিক পেনশন সুবিধা পাবেন না।

অক্ষমতার ক্ষেত্রে পেনশন

ইপিএস-এর কোনোও সদস্য যদি সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন এবং তিনি পেনশনযোগ্য সময়ের জন্য কাজ নাও করেন তবুও তিনি মাসিক পেনশনের জন্য যোগ্য হবেন। সেই সদস্যের স্থায়ী অক্ষমতার তারিখ থেকে সারা জীবনের জন্য তিনি পেনশন পাবেন।

পেনশনের যোগ্য হওয়ার জন্য নিয়োগকর্তাকে এই ব্যক্তির ইপিএস অ্যাকাউন্টে অন্তত এক মাসের জন্য তহবিল জমা করতে হবে এবং সদস্যর প্রতিবন্ধকতা প্রমাণ করার জন্য সদস্যকে একটি মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে।

সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারের জন্য পেনশন

একজন ইপিএস সদস্যের পরিবার ৩ টি পরিস্থিতিতে কর্মচারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে পারিবারিক পেনশন সুবিধা পাবেঃ

  • যদি কোনও সদস্য ১০ বছর চাকরি করেন এবং ৫৮ বছর বয়সের আগে মারা যান।
  • যদি কোনও সদস্য মাসিক পেনশন পেতে শুরু করার পরে মারা যান।
  • যদি কোনও সদস্য পরিষেবা দেওয়ার সময় মারা যান এবং নিয়োগকর্তা তাদের ইপিএস অ্যাকাউন্টে অন্তত একবার তহবিল জমা করেন।

ইপিএস ৯৫ পেনশনের প্রকার

ইপিএস ৯৫ এর অধীনে বিভিন্ন ধরনের পেনশন রয়েছে, যেমন বিধবা, শিশু, অনাথ পেনশন ও হ্রাস পেনশন।

বিধবা পেনশনঃ

বিধবা পেনশন বা বৃদ্ধ পেনশন, যোগ্য সদস্যের বিধবার জন্য প্রযোজ্য। বিধবার মৃত্যু বা তার পুনর্বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এই পেনশন দেওয়া হয়ে থাকে। একাধিক বিধবার ক্ষেত্রে পেনশন শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠ বিধবাকে দেওয়া হবে।

শিশু পেনশনঃ

ইপিএস সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে, মাসিক বিধবা পেনশনের পাশাপাশি পরিবারের শিশুদের জন্য মাসিক শিশু পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে শিশুর বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত মাসিক পেনশন দেওয়া হবে এবং প্রদেয় পরিমাণ হবে বিধবা পেনশনের ২৫% এবং সর্বাধিক দুই সন্তানকে এই পেনশন দেওয়া হয়ে থাকে।

অনাথ পেনশনঃ

ইপিএস সদস্যের মৃত্যু হলে এবং তাঁর বিধবা জীবিত না থাকলে, তার সন্তানেরা মাসিক বিধবা পেনশনের ৭৫% মাসিক অনাথ পেনশন পাওয়ার অধিকারী হবে। এই সুবিধাটি পরিবারের বেঁচে থাকা বড় শিশু এবং তাঁর পরের ছোট শিশু, মোট দুজন শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

হ্রাস পেনশনঃ

ইপিএস সদস্য যদি ১০ বছরের চাকরি পূর্ণ করেন এবং ৫০ বছর বয়সে পৌঁছান তবে ৫৮ বছরের বয়সের আগেও পেনশন প্রত্যাহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে, ৫৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রতি বছর ৪% হারে পেনশনের পরিমাণ হ্রাস হবে।

অর্থাৎ যদি সদস্য ৫০ বছর বয়সে পেনশন প্রত্যাহার করেন তবে তিনি মূল পেনশনের (১০০% – ৮ x ৪) = ৬৮% পরিমাণ পেনশন পাবেন।

তেমনই, যদি তিনি ৫৫ বছর বয়সে হ্রাসকৃত হারে পেনশন প্রত্যাহার করতে চান তবে তিনি (১০০% – ৩ x ৪) = ৮৮% হারে পেনশন পাবেন।

ইপিএস পেনশন কীভাবে গণনা করবেন

ইপিএস সদস্যের পেনশনের পরিমাণ তাঁর পেনশনযোগ্য বেতন এবং পেনশনযোগ্য পরিষেবার উপর নির্ভর করে। নিম্ন উল্লিখিত পদ্ধতিতে সদস্যের মাসিক পেনশন গণনা করা হয়ঃ

সদস্যের মাসিক পেনশন আয় গণনা করার সূত্রটি হল –

সদস্যের মাসিক পেনশন = (পেনশনযোগ্য বেতন x পেনশনযোগ্য পরিষেবা) / ৭০

পেনশনযোগ্য বেতনঃ

পেনশনযোগ্য বেতন হল সদস্য কর্মচারীদের পেনশন স্কিম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগের ৬০ মাসের গড় মাসিক বেতন।

বেনিফিটঃ

যদি চাকরির শেষ ৬০ মাসে কোন নন্‌-কন্ট্রিবিউটরি পিরিয়ড থাকে, সেক্ষেত্রে তবু সেই দিনগুলির সুবিধা কর্মচারীকে দেওয়া হয়, যেমন-

যদি ব্যক্তির বেতন ₹১৫,০০০/- টাকা হয় এবং তিনি কোন মাসে ২৮ দিনের জন্য কাজ করেন, তাহলে ব্যক্তির বেতন ২৮ দিনের জন্য হয় ₹১৪,০০০/- টাকা, কিন্তু ইপিএস এর ক্ষেত্রে তাঁর মাসিক বেতন মোট ₹১৫,০০০/- টাকাই বিবেচিত হবে।

সর্বোচ্চ পেনশনযোগ্য বেতনঃ

ইপিএফও গাইডলাইন অনুসারে, সর্বোচ্চ পেনশনযোগ্য বেতন প্রতি মাসে ₹১৫,০০০/- টাকা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

অবদানঃ

পিএফ অনুসারে, নিয়োগকর্তা কর্মচারীর ইপিএস অ্যাকাউন্টে কর্মচারীর বেতনের ৮.৩৩% অবদান রাখেন, অর্থাৎ প্রতি মাসে কর্মচারীর ইপিএস অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ হল ₹১৫০০০ x ৮.৩৩ / ১০০ = ₹১২৫০/-

পেনশনযোগ্য পরিষেবাঃ

সদস্যের প্রকৃত পরিষেবার সময়কাল পেনশনযোগ্য পরিষেবা হিসাবে বিবেচিত হয়।

নিয়মঃ

পেনশনযোগ্য পরিষেবার সময়কাল গণনা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়োগকর্তার অধীনে পরিষেবার মোট সময়কাল যোগ করা হয়। তাই কর্মচারীকে ইপিএস স্কিম সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে এবং প্রতিবার চাকরি পরিবর্তন করার সময় নতুন নিয়োগকর্তার কাছে তা জমা দিতে হবে।

বোনাসঃ

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, কর্মচারী ২০ বছরের চাকরি পূর্ণ করার পরে ২ বছরের বোনাস পাবেন।

প্রত্যাহারঃ

যদি সদস্য ১০ বছরের পরিষেবার মেয়াদ শেষ করার আগে, ইপিএস কর্পাস প্রত্যাহার করে অন্য কোন কোম্পানিতে যোগদান করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে পুনরায় ইপিএস অ্যাকাউন্টে অবদানের জন্য তাঁকে নতুন করে শুরু করতে হবে এবং পরিষেবার সময়কালও শূন্য হিসাবে বিবেচিত হবে।

সময়কালঃ

পেনশনযোগ্য পরিষেবার সময়কাল ৬ মাসের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়। 

ন্যূনতম পেনশনযোগ্য পরিষেবা সময়কাল হোল ৬ মাস। চাকরির মেয়াদ ৮ বছর ২ মাস হলে, সেক্ষেত্রে পেনশনযোগ্য পরিষেবার সময়কাল ৮ বছর বিবেচিত হয়। তবে, মেয়াদকাল ৮ বছর ১০ মাস হলে, পেনশনযোগ্য পরিষেবার সময়কাল ৯ বছর বিবেচিত হবে।

ইপিএস পেনশন ফর্ম

ইপিএস -এর অধীনে পেনশনের সুবিধা পেতে নিম্নলিখিত ফর্মগুলি পূরণ করতে হবেঃ

ফর্মের নামআবেদনকারীফর্মের উদ্দেশ্য
ফর্ম ১০সিসদস্য১০ বছরের পরিষেবার আগে প্রত্যাহারইপিএস স্কিম সার্টিফিকেট
ফর্ম ১০ডিসদস্য৫০ বছর বয়সের পরে মাসিক পেনশন উত্তোলন।৫৮ বছর বয়সের পরে পেনশন পেতে, অক্ষমতা পেনশন
ফর্ম ১০ডিসুবিধাভোগী, বিধবা বা শিশুমাসিক বিধবা পেনশন, শিশু, অনাথ পেনশন
লাইফ সার্টিফিকেটপেনশনভোগী / অভিভাবকপেনশনভোগী একটি ফর্মে স্বাক্ষর করে যে তিনি জীবিত আছেন।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে পেনশন অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকা ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কাছে জমা দিতে হবে।
অ-পুনর্বিবাহ সার্টিফিকেটবিধবা, বিপত্নীকএই ঘোষণা করা যে বিধবা পুনরায় বিয়ে করেননি।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে জমা দিতে হবে।

ইপিএস ৯৫ ব্যালেন্স কি ভাবে দেখবেন

নিম্নলিখিত উপায় ইপিএস ৯৫ ব্যালেন্স চেক করতে পারবেনঃ

  • পিএফ সদস্য তাঁর পাসবুকেই ইপিএস অ্যাকাউন্টের জমা হওয়া পরিমাণ যাচাই করতে পারবেন। অনলাইনে পাসবুক দেখার পদ্ধতি জানার জন্য ক্লিক করুন ইপিএফ পাসবুক
  • ইপিএফ পাসবুক পোর্টাল থেকে ইউএএন ও পাসওয়ার্ডের সাহায্যে লগইন করে ইপিএস ব্যালেন্স চেক এবং পাসবুক ডাউনলোড করতে পারবেন।
epf passbook portal
eps balance check online

ইপিএস ৯৫ সম্পর্কিত প্রশ্ন (FAQ)

ইপিএস ৯৫ পেনশনের নিয়ম কি?

ইপিএস ৯৫ স্কিমের অধীনে পেনশন সুবিধা পেতে কর্মচারীকে ন্যূনতম ১০ বছর চাকরি করতে হবে। পেনশনের জন্য অবসরের বয়স হোল ৫৮ বছর। তবে সদস্য ৫০ বছর বয়স থেকে কম হারে পেনশন তুলতে পারবেন।

ইপিএস স্কিম সার্টিফিকেট কারা পাওয়ার যোগ্য?

যে সদস্যের পরিষেবা ১০ বছর বা তার বেশি এবং বয়স ৫৮ বছরের কম, তাঁর ক্ষেত্রে স্কিম শংসাপত্র বাধ্যতামূলক। যে সদস্যের পরিষেবা ১০ বছরের কম, তিনিও স্কিম সার্টিফিকেট নিতে পারেন তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।

ইপিএস স্কিম সার্টিফিকেট নেওয়ার সুবিধাগুলি কি কি?

কর্মসংস্থান পরিবর্তন করার সময় এটি পেনশন অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করার সুবিধা দেয়।
ইপিএস সদস্যর মৃত্যু হলে পরিবারকে পেনশন পেতে সহায়তা করে।

প্রতিবন্ধী পেনশনের জন্য কে যোগ্য?

ইপিএস সদস্য যদি চাকরির সময় স্থায়ীভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে অক্ষম হন, তবে তিনি পেনশন পাওয়ার অধিকারী হবেন। তবে সদস্যকে সেন্ট্রাল বোর্ডের তত্বাবধানে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে এবং তিনি সেই চাকরিটির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে অযোগ্য কিনা তা যাচাই করা হবে।

পেনশনের জন্য নমিনি দেওয়ার প্রয়োজন কি?

ইপিএস সদস্যের যদি পেনশন পাওয়ার আগে মৃত্যু হয় এবং যদি পরিবারের কোনো যোগ্য সদস্য না থাকে, তাহলে মনোনীত ব্যক্তিকে পেনশন দেওয়া হবে।

একজন ইপিএস পেনশনভোগী কি দেশের মধ্যেই অন্য পেনশন পেতে পারেন?

হ্যাঁ।

পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে কি বিবাহিত কন্যাকে বাদ দেওয়া হয়?

না, বৈবাহিক অবস্থা সেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়। যদি সন্তানের বয়স ২৫ বছরের কম হয় তবে ইপিএস সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর পারিবার পেনশনের জন্য যোগ্য হবে।

বিধবা ও শিশুরা কি বিভিন্ন জায়গায় বা ব্যাঙ্কে পেনশন তুলতে পারে?

না। বিধবা এবং সন্তানদের একই ব্যাঙ্ক ও শাখায় পেনশন তুলতে হবে।

ইপিএস স্কিমের অধীনে বেকারত্বের সময়কালের ক্ষেত্রে কী হবে?

সেক্ষেত্রে, বেকারত্বের সময়কাল প্রকৃত পরিষেবা থেকে বাদ দেওয়া হবে। পেনশন শুধুমাত্র অবদানকারীর পরিষেবার উপর ভিত্তি করে হবে।

ইপিএস সদস্যের পতি বা পত্নীকে কি পারিবারিক পেনশন পাওয়া থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব?

না। স্বামী বা স্ত্রী হলেন স্বাভাবিক সুবিধাভোগী, তবে যদি না তাদের আইনত ডিভোর্স হয়।

Leave a Comment